রাজ্য সরকারি কর্মীদের ‘অচ্ছুত’ করার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রণংদেহি অরূপ চক্রবর্তী

ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফলের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল। গণনাকাজে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্রাত্য রেখে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল, তাকেই মান্যতা দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের এই নির্দেশের পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই

গণনার সময় ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার’ ও ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ পদে রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়োগ না করার কমিশনের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এদিন সাফ জানিয়েছে, গণনাকর্মীরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করেন, তাই তাঁদের কর্মস্থল নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, গণনাকেন্দ্রে যখন সব দলের এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন, তখন স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় থাকার কথা নয়।

তৃণমূলের তোপ ও ‘চণ্ডীগড় মডেল’ প্রসঙ্গ

আদালতের রায়ের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মীরা কি তবে অচ্ছুত?” সংবিধান অনুযায়ী কর্মচারীদের মধ্যে এমন বিভেদ অনভিপ্রেত বলে দাবি করেন তিনি। চণ্ডীগড়ের মেয়র নির্বাচনে ব্যালট চুরির উদাহরণ টেনে অরূপ আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এবং তাদের ‘আজ্ঞাবহ’ কমিশন কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়ে ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে কিনা, সেই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। মূলত কেন্দ্রীয় কর্মীদের দিয়ে গণনা করানোর এই জেদকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে জোড়াফুল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *