সোমবার ৪ মে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ! ভোটগণনার আগে কোন ‘এক্স ফ্যাক্টর’ ঘোরাতে পারে পাশা?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ইতিমধ্যেই এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে এক অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে চলা এই হাইভোল্টেজ গণনায় তৃণমূল ও বিজেপির স্নায়ুযুদ্ধের অন্তিম ফয়সালা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে এমন কিছু ফ্যাক্টর কাজ করেছে যা প্রথাগত সমস্ত সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে।
বিপুল ভোটদান ও জনবিন্যাসের সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটদান। বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়া এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গ্রামীণ ও মুসলিম ভোটারের প্রভাব বেশি থাকলেও, দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে শহুরে প্রভাব ও জনবিন্যাসের ভিন্নতা লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাটি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বক্সে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের দুর্গ বনাম বিজেপির প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্প এবং বুথস্তরের শক্তিশালী সংগঠন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক ও জঙ্গলমহলে ফিরে পাওয়া জমি শাসকদলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি মূলত ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সিকে মূলধন করে এগোচ্ছে। আরজি কর কাণ্ড, নারী নিরাপত্তা ইস্যু, নিয়োগ দুর্নীতি এবং আলু চাষিদের অসন্তোষ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের বিজেপির দিকে টানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্ণায়ক ফ্যাক্টর ও তৃতীয় শক্তির অবস্থান
এবারের লড়াই কেবল দ্বি-মুখী নয়; বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট এবং হুমায়ুন কবীরের মতো স্থানীয় শক্তির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শক্তিগুলো যদি প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটে ভাগ বসায় তবে তা বিজেপির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে, আবার সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসালে বিপাকে পড়বে তৃণমূল। এছাড়া বিজেপির ‘মাসে ৩ হাজার টাকা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বনাম তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা কাল দুপুরের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ছাব্বিশের এই রায় বাংলার আগামী দিনের রাজনীতির দিশা নির্ধারণ করবে।