মুরগি চুরির প্রতিবাদ করায় মহিলাকে নিগ্রহ! ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
ভোটগণনার আগের রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা এলাকা। শনিবার রাতে ক্যানিংয়ের ইটখোলা অঞ্চলের মধুখালী এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক মহিলাসহ দুই বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে এক আহত কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
হামলার নৃশংসতা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
আক্রান্ত বিজেপি কর্মী দীপিকা নস্করের অভিযোগ, শনিবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সর্দার ও তাঁর অনুগামীরা লাঠি, রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযুক্তরা দীপিকার মুরগির খামার থেকে মুরগি চুরি করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এর পরেই ক্ষিপ্ত দুষ্কৃতীরা তাঁকে বিছানায় ফেলে মারধর করে এবং অশালীন হুমকি দিয়ে বলে, “৪ তারিখের পর তোকেও টেনে নিয়ে যাব।” দীপিকার দাবি, হামলার সময় এলাকায় অন্তত ৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে এবং বন্দুকের বাঁট দিয়ে কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে।
তৃণমূলের অস্বীকার ও এলাকায় আতঙ্ক
এই ঘটনায় অপর আহত কর্মী কবির কৃষ্ণ হালদারের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, গণনার আগে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই তৃণমূল এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তবে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। ঘটনার পর থেকে ইটখোলার মধুখালী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার খবর মেলেনি। গণনার আগে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ক্যানিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।