ভোটগণনায় কারচুপির আশঙ্কা! ইভিএম ও তথ্য বিভ্রাট রুখতে এজেন্টদের ‘কড়া ক্লাস’ নিলেন মমতা-অভিষেক

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চরম সতর্ক ঘাসফুল শিবির। ২০০-র বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও, গণনাকেন্দ্রে কারচুপি বা ইভিএম জালিয়াতি রুখতে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এজেন্টদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে সম্ভাব্য সব প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার রণকৌশল বুঝিয়ে দেন তাঁরা।

খাবার থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট: সতর্কবার্তার দীর্ঘ তালিকা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এজেন্টদের ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এজেন্টদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, “বাইরের কোনো খাবার বা পানীয় নেবেন না, তাতে কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।” এছাড়া গণনার সময় লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে নেত্রী বলেন, মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ৫০টি মেশিন পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সামান্য সময়ের জন্য আলো নিভলে বা সিসিটিভি বন্ধ হলে তৎক্ষণাৎ শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। এমনকি ওয়াশরুমে যাওয়ার সময়ও নিজের জায়গায় বিশ্বস্ত কাউকে বসিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য বিকৃতি ও ইভিএম হ্যাকিং রুখতে কৌশল

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, গণনার কাজে বিজেপি ঘেঁষা কিছু ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে নিয়োগ করা হয়েছে, যারা জয়ী প্রার্থীকে পরাজিত হিসেবে কম্পিউটারে তথ্য নথিভুক্ত করতে পারে। এই ‘তথ্য জালিয়াতি’ রুখতে প্রতিটি রাউন্ড শেষে তথ্যের মিল দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “জয়ের সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ টেবিল ছাড়বেন না।” পাশাপাশি ইভিএমের ব্যাটারি যদি ৭০ শতাংশের আশেপাশে থাকে, তবে তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ পর্যবেক্ষক ও আইনি প্রস্তুতি

গণনা প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাতে প্রতিটি জেলার জন্য হেভিওয়েট নেতাদের বিশেষ ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ হিসেবে নিয়োগ করেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজে সংবাদ সম্মেলন করে চূড়ান্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো এজেন্ট যেন কেন্দ্র ত্যাগ না করেন। যদি দেখা যায় সামান্য ব্যবধানে বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তবে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার আবেদন করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সোমবারের মহারণে এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ শাসক শিবির। এখন দেখার, তৃণমূলের এই ‘ত্রিস্তরীয়’ নজরদারি গণনার টেবিলে কতটা কার্যকর হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *