আধুনিক প্রযুক্তির জাদুতে কি মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচল ভুটান!
বার্তা ডেস্কঃ
ভুটানের সিনতাপু হিমবাহ হ্রদ ফেটে প্রবল বেগে নেমে আসা প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জলরাশি এক লহমায় ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে গাসা ও পুনাখা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড় উপচে আসা সেই জলস্রোত, পাথর ও মাটির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং গবাদিপশু ভেসে গিয়ে ব্যাপক লণ্ডভণ্ড পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এই বিধ্বংসী ঘটনার মধ্যেও সঠিক সময়ে আগাম সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠায় চরম প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই ভুটানের ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদে নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছিল। জলস্তর নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ‘সাইফনিং’ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভুটান সরকারের তৎপরতায় নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ঠেকানো গেছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জলপ্রবাহ নদীপথে নামতে শুরু করায় প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্ত এলাকায় প্রবল সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ভুটান থেকে মো চু নদী হয়ে ভারতের সংকোশ ও জলঢাকা নদীতে প্লাবনের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সের নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যদিও সিনতাপু হ্রদের ভেসে আসা পলি ও কাঠে নতুন করে কৃত্রিম বাঁধ তৈরির ফলে পুনরায় আচমকা জল নেমে আসার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাসত্ত্বেও ভুটান প্রশাসনের প্রযুক্তিনির্ভর হড়পা বান ব্যবস্থাপনা ও দুই দেশের প্রশাসনের যৌথ আগাম পদক্ষেপে বর্তমানে কোনো সাধারণ মানুষের মৃত্যু ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে।