নবান্নের লড়াইয়ে শেষ হাসি কার, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হলো প্রতিটি গণনাকেন্দ্র!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তার কঠোর বেষ্টনী তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল সোমবার নির্ধারিত হবে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের রাজনৈতিক ভাগ্য। ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটে বন্দি জনমত শেষ পর্যন্ত কাকে নবান্নের ক্ষমতায় বসাবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শান্তিপূর্ণভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুম ও গণনাকেন্দ্রকে কার্যত ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করা হয়েছে।

ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা

রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে স্ট্রংরুমের প্রবেশপথে চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া, গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, ফলে যে কোনো ধরণের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চুঁচুড়া, বাঁকুড়া এবং কলকাতার ভবানীপুরসহ প্রতিটি স্পর্শকাতর এলাকায় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি এবং ডগ স্কোয়াডের নজরদারি চলছে।

রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

গণনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে; এরই অংশ হিসেবে সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রতীক উর রহমান বহরমপুরে পৌঁছে স্থানীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, স্ট্রংরুমের বাইরে বিজেপি ও তৃণমূলের এজেন্টরা পালা করে পাহারায় বসেছেন। গণনার দিন বা তার পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য উত্তেজনা রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ অব্যাহত রয়েছে। নিশ্ছিদ্র এই নিরাপত্তার উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা এবং যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলা করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *