গণনার আগে শিবপুরের স্ট্রংরুমে বহিরাগত আতঙ্ক, মধ্যরাতে প্রার্থীর হানা!
ভোট গণনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাওড়ার শিবপুরে স্ট্রংরুম চত্বরে বহিরাগতদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে শিবপুরের কাসুন্দিয়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন স্কুলের স্ট্রংরুমে কয়েক জন অযাচিত ব্যক্তিকে দেখা যাওয়ায় ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই গণনাকেন্দ্রে ছুটে যান জগৎবল্লভপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুবীর চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযোগের কারণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
শিবপুরের এই স্কুলটিতেই হাওড়ার পাঁচলা, জগৎবল্লভপুর ও ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, শনিবার রাতে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে পিডব্লিউডির কর্মী পরিচয়ে প্রায় ৫০ জন বহিরাগত শ্রমিক স্কুলের ভেতরে কাজ করছিলেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই এলাকায় গণনার ঠিক আগে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক বহিরাগত প্রবেশ করল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থীর আশঙ্কা, এই সুযোগে ইভিএম সরিয়ে ফেলা বা সেগুলোতে কারচুপি করার চেষ্টা হতে পারে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ECI), রিটার্নিং অফিসার (RO) এবং জেলা শাসকের (DM) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় উচ্চ নেতৃত্বকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। জগৎবল্লভপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপম ঘোষের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন থেকেই অজুহাত তৈরি করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।