বাংলার ভাগ্য নির্ধারণে বিদেশের সাট্টা বাজারে কোটি টাকার বাজি, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
ভোট গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বাংলার নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা এবার সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পৌঁছেছে। জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাতে বিদেশের অনলাইন প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ও সাট্টা বাজারে উড়ছে লাখ লাখ ডলার। নজিরবিহীন এই ডিজিটাল লেনদেনে কখনো বিজেপি আবার কখনো তৃণমূলকে এগিয়ে রাখছেন বিনিয়োগকারীরা, যা এবারের বিধানসভা নির্বাচনের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদেশের ডিজিটাল মার্কেটে বিজেপির দাপট
আমেরিকার একটি জনপ্রিয় প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলার নির্বাচনের ওপর প্রায় ৪৮ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা) বাজি ধরা হয়েছে। সর্বশেষ ট্রেন্ড বলছে, জয়ের সম্ভাবনায় বিজেপি ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাবনা ৪৩ শতাংশ। বাম-কংগ্রেস বা অন্যান্য দলগুলি ১ শতাংশের নিচেই অবস্থান করছে। মজার বিষয় হলো, এপ্রিলের শুরুতে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে থাকলেও প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের পর পাল্লা ভারী হয়েছে বিজেপির দিকে। তবে তৃণমূলের পক্ষে ট্রেড ভলিউম বা লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় বিনিয়োগকারীরা বিজেপির জয়ে এককালীন মোটা টাকা লগ্নি করেছেন।
দিল্লির সাট্টা বাজার ও রেকর্ড ভোটের প্রভাব
বিদেশের বাজার বিজেপিকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চিত্র ভিন্ন। দিল্লির সাট্টা বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ১৪৬-১৪৯টি আসন পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে, আর বিজেপি পেতে পারে ১৪০-১৪৩টি আসন। অর্থাৎ, সব জায়গাতেই একটি বিষয় স্পষ্ট—লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রথম দুই দফায় যথাক্রমে ৯৩ শতাংশ ও ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভাবনীয় রেকর্ড। এই বিপুল জনসমর্থন শেষ পর্যন্ত কার বাক্সে যায় এবং সাট্টা বাজারের এই পূর্বাভাস কতটা সফল হয়, তা আগামীকাল বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।