ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি, চন্দননগরে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর মুখে গ্রেফতার হয়েছেন শহরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর গ্রেফতারির পরেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিলেন চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান নিমাইচন্দ্র দাস। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, মন্ত্রী থাকাকালীন চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোতেও নানারকম রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন ইন্দ্রনীল সেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির শৃঙ্খলায় বারবার হস্তক্ষেপ করতেন।
পুজো কমিটির অভিযোগ ও নিমাইচন্দ্র দাসের প্রতিক্রিয়া
- নিয়মভঙ্গে হস্তক্ষেপ: নিমাইচন্দ্র দাস জানান, পুজো ও বিসর্জনের নিয়মভঙ্গকারী বারোয়ারির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নিলে তাতেও বাধা দিতেন ইন্দ্রনীল। গত বছর তেঁতুলতলা বারোয়ারিকে শোভাযাত্রায় গাড়ির সংখ্যা কমাতে বলা হলেও তৎকালীন মন্ত্রী তাতে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
- হেনস্থা ও কার্নিভালের চেষ্টা: কেন্দ্রীয় কমিটির গাইড ম্যাপ প্রকাশের ক্ষেত্রেও অযথা বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রাকে জোর করে কার্নিভালের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
- ‘মা জগদ্ধাত্রী শাস্তি দিয়েছেন’: কমিটির চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, “তখন আমরা চুপ ছিলাম, অন্যভাবে উত্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মা জগদ্ধাত্রীর কৃপায় তিনি এবার তা পেয়ে গিয়েছেন। অন্যায় করে থাকলে তার শাস্তি তিনি পাবেনই।”
এ বছরের পুজো ও শোভাযাত্রার প্রস্তুতি
মন্ত্রী গ্রেফতার হলেও পুজোর আয়োজনে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে তৎপর রয়েছে কমিটি ও প্রশাসন:
- শোভাযাত্রার বহর: এ বছর ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নেবে মোট ৭৮টি বারোয়ারি পুজো। শোভাযাত্রায় থাকবে ২৪৫টি লরি। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন মোড়ে থাকবে লাইভ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা।
- ভিড় নিয়ন্ত্রণ: চুঁচুড়া, চন্দননগর ও মানকুণ্ডু স্টেশন রোডের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পুলিশকে গার্ড রেল দিয়ে তৎপর থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। মণ্ডপগুলিতে প্রবেশ পথ ছোট ও বেরোনোর পথ চওড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয়
প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ থাকলেও বর্তমান বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। নিমাইচন্দ্র দাস জানান, বর্তমান বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে পুজো পরিচালনায় কোনও দলীয় রং দেখা হবে না এবং চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পুজো কমিটির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।