লক্ষ্য এবার লালকেল্লা! চতুর্থবার নবান্ন জয়ের পর দিল্লির ‘জমিদার’ হঠানোর ডাক মমতার
আজ ৪ মে, ২০২৬। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী দিন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। তবে ফলাফল আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার আগেই জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলার এই জয় কেবল রাজ্যের ক্ষমতায় টিকে থাকা নয়, বরং দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপিকে সরানোর চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনা।
চতুর্থ ইনিংস নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস
২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১—টানা তিনবার জয়ের পর এবার চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন মমতা। দলীয় সূত্রে খবর, অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বলে দাবি করা হয়েছে। রবিবার ভবানীপুর এলাকার কাউন্সিলর ও কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে নেত্রী বার্তা দিয়েছেন, “লড়ছে বাংলা, জিতবে বাংলা। গেরুয়া উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে যারা বাংলার মানুষের চোখের জল ফেলেছে, আজ ওরা জবাব পাবেই।”
গণনাকেন্দ্রে ‘কড়া নজরদারির’ নির্দেশ
বিজয় নিশ্চিত জানলেও গণনা প্রক্রিয়ায় কোনও প্রকার শিথিলতা বরদাস্ত করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম কারচুপি বা ভোট চুরির আশঙ্কায় কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি:
- লোডশেডিং ও ইভিএম বদল: গণনাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বা কারচুপির মাধ্যমে ইভিএম বদলানোর চেষ্টা হতে পারে, তাই এজেন্টদের চোখ-কান খোলা রাখার নির্দেশ।
- গণনার গতিবিধি: বিজেপি প্রভাবিত এলাকার বুথগুলো আগে গণনা করে বা বারবার পুনর্গণনা করিয়ে প্রক্রিয়া ধীর করার চেষ্টা হতে পারে। কর্মীদের ধৈর্য ধরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালানোর বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।
- প্রতিবাদ: কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি কোথাও কাউন্টিং এজেন্টদের বসতে বাধা দেয় বা জোরজুলুম করে, তবে গণতান্ত্রিক ভাবে সরব হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের ‘ওয়ার রুম’ ও তৃণমূলের রণকৌশল
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই প্রতিটি জেলায় ‘ওয়ার রুম’ সক্রিয় করে ফেলতে হবে। রাজ্যস্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে এই ওয়ার রুমগুলো। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের বাইরে তৃণমূলের ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনের কর্মীরা জমায়েত থাকবেন যাতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা থাকে।
দিল্লি জয়ের রোডম্যাপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই নির্বাচনের ফলাফলই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। নেত্রী স্পষ্ট বলেছেন, “বাংলাই পথ দেখাবে।” তাঁর লক্ষ্য, চতুর্থবার নবান্ন জয়ের পরেই দিল্লির বুক থেকে বিজেপিকে হটাতে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানো। বাংলার জয়কে তিনি দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
আজকের এই ঐতিহাসিক গণনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলে গিয়ে কি তৃণমূল ২০০-র গণ্ডি পার করবে? না কি বিজেপি প্রত্যাঘাত হানবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ বিকেলের মধ্যেই।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।