“তৃণমূল এখনই ২৩৪ আসনে জয়ী!” অখিলেশের দাবিতে শোরগোল, বিজেপিকে ‘মিথ্যার সোনপাপড়ি’ বলে আক্রমণ
লখনউ: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর মতে, বিজেপির সমস্ত ‘ষড়যন্ত্র’ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপটকে উপেক্ষা করে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ২৩৪টি আসনে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। সোমবার সকালে ভোটগণনা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই অখিলেশের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
বিজেপিকে ‘মিথ্যার সোনপাপড়ি’ কটাক্ষ
বিজেপির কড়া সমালোচনা করে সপা সুপ্রিমো তাদের ‘মিথ্যার সোনপাপড়ি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, “বিজেপি আসলে মিথ্যার স্তর সাজিয়ে চলা একটি দল। একটা মিথ্যার ওপর আর একটা মিথ্যার স্তর চাপিয়েই তারা রাজনীতি করে।” বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে ঘিরেই বেশি সরব হয়েছেন অখিলেশ। তাঁর মতে, লজ্জাজনক পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি এখন মুখ লুকোনোর জন্য ফলতার মতো অজুহাত খুঁজছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ফলতা কাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ যাদব। রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, “যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর কড়া প্রহরা ছিল, সেখানে কীভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? এর অর্থ কি সংবাদমাধ্যম বুথের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল?” তিনি আরও দাবি করেন, যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী পর্যবেক্ষককে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত এবং পুনর্নির্বাচনের বিপুল খরচ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের থেকে আদায় করা প্রয়োজন।
তৃণমূল কর্মীদের ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ
ভোট গণনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের অত্যন্ত সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অখিলেশ। তিনি বলেন, “জয়ী হওয়ার শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দান ছাড়া যাবে না। বিজেপির সব অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে তৃণমূলের কর্মীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।” গত শনিবারও তিনি জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই লড়াই করছেন এবং তিনিই জিতবেন।
আসাম থেকে বাংলা—নজরে ফলাফল
আজ ৪ মে-র এই মহারণে আসাম থেকে বাংলা, তামিলনাড়ু থেকে কেরল—সর্বত্রই ভাগ্যনির্ধারণের দিন। বাংলার ২,৯২৬ জন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন ইভিএম-এর ভেতর। তবে গণনার ঠিক আগে অখিলেশের এই ‘২৩৪’-এর সংখ্যাতত্ত্ব এবং বিজেপিকে আক্রমণের সুর বিরোধী শিবিরের আত্মবিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।