‘রাত জাগুন, সজাগ থাকুন’, গণনার ভোরে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা মমতার! ‘লোডশেডিং’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়
কলকাতা: ৪ মে, ২০২৬। আজ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী দিন। কিন্তু গণনার ঠিক আগের রাতে ‘পরিকল্পিত’ লোডশেডিং এবং সিসিটিভি বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন, “সতর্ক থাকুন, পাহারা দিন, রাত জাগুন।”
কালীঘাটে বৈঠক ও গভীর রাতের পোস্ট
রবিবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবনে ভবানীপুর কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর গভীর রাতে তাঁর ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি দীর্ঘ পোস্ট সামনে আসে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্ট্রংরুম সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও স্পর্শকাতর এলাকা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বেশ কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর পোস্টে উঠে আসা এলাকাগুলি হল:
- হুগলির শ্রীরামপুর
- নদীয়ার কৃষ্ণনগর
- পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম
- কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র
নেত্রীর দাবি, এই জায়গাগুলোতে দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি বন্ধ রেখে স্ট্রংরুমের ভেতরে গাড়ি যাতায়াত করছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সমস্ত ঘটনাই ঘটছে বিজেপির ‘অঙ্গুলিহেলনে’।
কুণাল ঘোষের ভিডিও ও ‘নো ভিডিও’ বিতর্ক
মমতার অভিযোগের সমান্তরালে রাতেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে পৌঁছে যান বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে দেখান যে, সিসিটিভি মনিটরের বেশ কিছু স্ক্রিন সম্পূর্ণ কালো হয়ে রয়েছে এবং সেখানে ‘নো ভিডিও’ (No Video) লেখা ফুটে উঠছে। কুণালের প্রশ্ন, “ভেতরে কী হচ্ছে? স্ক্রিন কেন কালো?” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতেই গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সমর্থকরা।
বিজেপির পালটা তোপ
যদিও তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পরাজয়ের আগাম অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। হার নিশ্চিত বুঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন।
সজাগ থাকার নির্দেশ
গণনা শুরুর প্রাক্কালে কর্মীদের প্রতি মমতার শেষ বার্তা ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি বলেন, “কোথাও কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে তাদের ঘিরে ধরুন। তৎক্ষণাৎ সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করুন এবং অভিযোগ জানান।” গত কয়েক দিন ধরেই সিসিটিভি বিভ্রাট এবং স্ট্রংরুম পরিদর্শন ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যে চাপানউতোর চলছিল, আজ গণনার সকালেও তা বজায় রইল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।