শহরজুড়ে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদর, অশান্তি রুখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ টহল

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ এড়াতে তিলোত্তমায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। শহরের আটটি গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছে ত্রিস্তরীয় বলয়। গণনাকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে কড়াকড়ি বজায় রাখার পাশাপাশি ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশকর্মী রাস্তায় নামানো হয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, গণনা শেষে বিজয় মিছিল বা সমর্থকদের উত্তেজনা যাতে সংঘাতের রূপ না নেয়, সেদিকেই এখন মূল নজর।

গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও ২০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল—শহরের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ আধিকারিকরা। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ভিড় জমানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য গণনাকেন্দ্রের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে চারপাশ সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা নিজে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিজয় মিছিলগুলোতে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।

ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে স্পর্শকাতর এলাকায় রুট মার্চ

পূর্ববর্তী নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে লালবাজারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস যেন পরাজিত শিবিরের ক্ষোভের সঙ্গে ধাক্কা না খায়, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দেবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে ভোটের দিন গোলমালের খবর মিলেছিল, সেখানে নিয়মিত রুট মার্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মিছিলে পুলিশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা হামলার আশঙ্কায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। সব মিলিয়ে, গণনার দিন শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন এখন চূড়ান্ত তৎপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *