“বিডিও-পুলিশ মিলেই ভিভিপ্যাট সরাচ্ছিল!” গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে বিস্ফোরক লকেট চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। গণনার ঠিক আগে সন্দেহজনকভাবে ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেশিন সরানোর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একাংশের সহায়তায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, মধ্যমগ্রামের রাস্তায় ভিভিপ্যাট স্লিপ পড়ে থাকতে দেখাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

সন্দেহজনক গতিবিধি ও লকেটের চ্যালেঞ্জ

বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, নোয়াপাড়ার একটি ভিভিপ্যাট মেশিন পুলিশ ও বিডিও-র উপস্থিতিতে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যা বিজেপি কর্মীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তাঁর মতে, এটি জনগণের রায়কে বদলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, “হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল ও প্রশাসনের একাংশ গণনা প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চাইছে। তবে মানুষ আমাদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন এবং আজ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই ক্ষমতায় আসছে।”

কমিশনের স্পষ্টীকরণ ও তদন্তের নির্দেশ

এদিকে, মধ্যমগ্রামের সুভাষনগর এলাকায় রাস্তার ওপর ভিভিপ্যাট স্লিপ পড়ে থাকার ভিডিও ভাইরাল হতেই তৎপর হয় নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ওঠে, এগুলি নোয়াপাড়া বিধানসভার ২৯ নম্বর বুথের স্লিপ। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশন জানিয়েছে, এই স্লিপগুলি নির্বাচনের দিনের আসল ভোটের নয়, বরং ভোটগ্রহণের আগে পরিচালিত ‘মক পোল’ বা মহড়ার সময়কার। গাফিলতির কারণে এগুলি সঠিক পদ্ধতিতে নষ্ট না করায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। কমিশন এই ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

গণনার প্রহর ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনায় এই ভিভিপ্যাট বিতর্ক এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন ৯২ শতাংশ ভোটদানের পর জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নিয়ে যখন রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা চলছে, তখন বিরোধী শিবিরের এই অভিযোগ গণনাকেন্দ্রগুলোর বাইরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি যখন এই ঘটনাকে কারচুপির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, তৃণমূল তখন একে হারার আগে বিজেপির ‘বাহানা’ বলে কটাক্ষ করেছে। আপাতত ইভিএমের রায়েই স্পষ্ট হবে এই বিতর্কের শেষ কোথায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *