প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূলকে ছাপিয়ে গেল বিজেপি! সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনা। সোমবার সকালের প্রাথমিক প্রবণতা বা ‘ট্রেন্ড’ অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। যদিও একে ‘সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ, যার চূড়ান্ত ফয়সালা দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার

এবারের নির্বাচনে দুই শিবিরের লড়াইয়ের সমীকরণ একেবারে ভিন্ন। বিজেপির প্রধান অস্ত্র ছিল টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ড ও নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত ইস্যুগুলো শহর ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে শাসক দলের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের বড় ভরসা গ্রামীণ বাংলার মজবুত ভোটব্যাংক এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরের পাশেই থাকে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

ঐতিহাসিক ভোটদান ও এক্স-ফ্যাক্টর

এবারের নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় প্রথমবার ভোটদানের হার ৯২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিনরাজ্য থেকে রেকর্ড সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোটদান এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক নীরব ভোটারের রায় কোন বাক্সে পড়েছে, তার ওপরেই নির্ভর করছে নবান্নের ভাগ্য।

ভবিষ্যৎ গতিপথ

বিক্ষিপ্ত কিছু অভিযোগ ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এবারের বড় প্রাপ্তি হলো কোনো প্রাণহানি ছাড়াই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া। অধিকাংশ এক্সিট পোল বিজেপির অনুকূলে ইঙ্গিত দিলেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আধিপত্য বজায় রাখতে পারেন নাকি প্রথমবারের মতো বাংলায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি সরকার। ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *