‘ফল তৈরি, শুধু ঘোষণার অপেক্ষা!’ গণনা শুরু হতেই জয়ের গ্যারান্টি দিলীপ ঘোষের, বাংলায় কি পদ্ম ফুটছে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাসের পারদ ততই চড়ছে। সোমবার সকালে খড়গপুর সদরের গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের রায় দিয়ে দিয়েছেন এবং ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

দিলীপ ঘোষের প্রধান বক্তব্য:

  • বিপুল জয়ের দাবি: দিলীপ ঘোষ জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবে। তাঁর কথায়, “ফলাফল ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে; এখন কেবল ঘোষণার অপেক্ষা।”
  • আইনশৃঙ্খলা ও পরিবর্তন: তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “নতুন সরকার বাংলার শ্রী ফেরাবে; এটি বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হবে না।”
  • তৃণমূলকে তোপ: তৃণমূলের কারচুপির অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “হেরে যাবে জেনেই ওরা এখন থেকে বিরোধী হওয়া অভ্যাস করছে।”

সকাল ১১টার সর্বশেষ আপডেট: বাংলার মহারণ কোন দিকে?

রাজ্যের ২৯৩টি আসনের (ফলতা বাদে) গণনায় বর্তমানে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসিআই (ECI) এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ট্রেন্ড অনুযায়ী চিত্রটি নিম্নরূপ:

১. আসন ভিত্তিক লড়াই (সম্ভাব্য ট্রেন্ড):

রাজনৈতিক দলআসন সংখ্যা (লিড/জয়)
বিজেপি (BJP)১৫০+ (ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ছাড়িয়েছে প্রাথমিক ট্রেন্ডে)
তৃণমূল (TMC)৯০ – ৯৫
কংগ্রেস ও অন্যান্য৫ – ৮

২. ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের ‘স্নায়ুযুদ্ধ’:

  • ভবানীপুর: এখানে লড়াই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। সকালের শুরুতে শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও, ১১টার আপডেটে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১,৯৯৬ ভোটের লিড নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তবে শুভেন্দুর দাবি, হিন্দু প্রধান ওয়ার্ডগুলোর গণনা শুরু হলে তিনি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবেন।
  • নন্দীগ্রাম: এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর লিড ধরে রেখেছেন। প্রথম রাউন্ডের শেষে তিনি প্রত্যাশা ছাপিয়ে প্রায় ৩,০০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

৩. হেভিওয়েট প্রার্থীদের অবস্থা:

  • এগিয়ে আছেন: দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), সজল ঘোষ (বরানগর), অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া), এবং রত্না দেবনাথ (পানিহাটি—যিনি আরজি করের নির্যাতিতার মা)।
  • পিছিয়ে আছেন: ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর—গণনায় বিলম্বের কারণে ট্রেন্ড অস্পষ্ট) এবং বেশ কয়েকজন বর্তমান তৃণমূল মন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *