বাংলায় কি তবে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া, গেরুয়া ঝড়ে ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার পথে বিজেপি?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল ঘোষণার দিনে রাজ্যজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ২৯৩টি আসনের ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সমানে-সমানে টক্কর চলছে। তবে ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বহু আসনে বিজেপি এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার পার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।
ভোটের ময়দানে এক্স-ফ্যাক্টর ও উচ্চ হার
এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ৯২ শতাংশের উপরে রেকর্ড ভোটদান। কোনো প্রকার প্রাণহানি ছাড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ একটি বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করেছে। গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোট কোন দিকে গিয়েছে, তার ওপরেই নির্ভর করছে নবান্নের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে লড়াই এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘কাঁটে কা টক্কর’-এ পরিণত হয়েছে।
অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি বনাম জনকল্যাণমূলক প্রকল্প
বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া। আরজি কর কাণ্ড কিংবা কসবা ল কলেজের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো নারী সুরক্ষা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল, তা ব্যালট বক্সে শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশ বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাকের দিকে ঝুঁকেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, তৃণমূলের মূল হাতিয়ার ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো সরাসরি সুবিধা প্রদানকারী প্রকল্প এবং গ্রামীণ বাংলায় দলের সুসংগঠিত ভিত্তি। তৃণমূল শিবিরের আশা ছিল, গ্রামীণ নারী ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক তাদের ক্ষমতায় ধরে রাখবে। তবে প্রাথমিক ট্রেন্ড যদি শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে, তবে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক রদবদল ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে ঘাসফুল তার জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে নাকি পদ্ম শিবির প্রথমবারের মতো বাংলার মসনদ দখল করে।