আসামের জঙ্গল জয় করে অবশেষে খাঁচাবন্দি দুর্ধর্ষ বাঘিনী!

বার্তা ডেস্কঃ

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে পথ ভুলে আসামে চলে যাওয়া রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনী অবশেষে খাঁচাবন্দি। ঘুমপাড়ানি গুলির সাহায্যে কাবু করার পর তাকে নিরাপদে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বন দফতর। মঙ্গলবার বিকেলে আসামের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন জঙ্গল থেকে অচেতন করে খাঁচাবন্দি করা হয় তিন বছর বয়সি এই বাঘিনীকে। বনমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাকে বিশেষ নজরদারিতে গাড়িতে তুলে ফের বক্সার উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়েছে।

বক্সা থেকে নদী পেরিয়ে আসামে পাড়ি

উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে এই বাঘিনীকে বক্সায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংকোশ নদী পেরিয়ে আসামের কোকরাঝাড় জেলার রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ঢুকে পড়ে চঞ্চল বাঘিনীটি।

রেডিও কলার ও যৌথ ট্র্যাকিং

বাঘিনীটির গলায় লাগানো রেডিও কলারের সিগন্যাল ট্র্যাক করে তার প্রতিটি গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম—উভয় রাজ্যের বন দফতর। তবে সম্প্রতি বাঘিনীটি ক্রমাগত জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় বনকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণী উভয়ের সুরক্ষার স্বার্থেই তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) ছাড়পত্র মেলার পরেই দুই রাজ্যের বনকর্মীদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল শুরু করে উদ্ধার অভিযান।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযান

অভিযানের সাফল্য নিয়ে বনমন্ত্রী জানান, বাঘিনীটি অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও চতুর হওয়ায় একাধিকবার বনকর্মীদের চোখের সামনে এসেও ফাঁকি দিয়ে জঙ্গলে গা ঢাকা দিচ্ছিল। শেষমেশ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ট্র্যাঙ্কুইলাইজার বা ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে তাকে সফলভাবে কাবু করা সম্ভব হয়। বনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের রানি খুব স্মার্ট। সামনে এসেও ধরা দিচ্ছিল না। অবশেষে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘুম পাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আমাদের রানিকে আমরা ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাঘিনীটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। সুস্থ অবস্থায় তাকে পুনরায় বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নির্দিষ্ট এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে বাঘের বংশবৃদ্ধি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *