বিহারের পর এবার বাংলাতেও বিজেপির জয়জয়কার, মিলে গেল মোদীর সেই ভবিষ্যদ্বাণী!
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্র ফুটে উঠছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৯০টি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে হাঁটছে বিজেপি। এই বিপুল জয় মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রায় ছয় মাস আগে করা একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীকেই বাস্তবতায় রূপ দিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের বিশাল সাফল্যের পর মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে, বিহারের জয় আসলে বাংলায় বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, “গঙ্গা নদী বিহার হয়ে বাংলায় আসে, আর বিহারের এই জয় বাংলায় আমাদের জয়ের পথ প্রস্তুত করে দিয়েছে।” বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয়লাভের সেই জোয়ার এবার বাংলার সীমানাতেও আছড়ে পড়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটা পেছনে ফেলে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সাংগঠনিক শক্তি ও মোদী ম্যাজিক
বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে দলের সুসংগঠিত সাংগঠনিক প্রচেষ্টা এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোলা ‘জঙ্গলরাজ’ বিরোধী প্রচার বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিহারের জয়ের পর মোদী যখন বাংলার মানুষকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থা উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই দলের কর্মীরা উজ্জীবিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছিলেন যে, বিজেপির প্রকৃত শক্তি হলো তার কর্মীরা। বর্তমান ফলাফলে সেই কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যা শুধু বাংলা নয়, দক্ষিণ ভারতের বিজেপি কর্মীদেরও নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ফলাফল রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে মাত্র ৯৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা তাদের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনের ওপর বড় ধরনের আঘাত। বিশেষ করে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে বিরোধী শিবিরের উল্লাস ও স্লোগান এক নতুন রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরি করেছে। এই বিপুল জয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, জনগণের আশা পূরণ করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে।