সরকারি প্রকল্পে বড় বদল, আধার ছাড়াই মিলবে টাকা?

বার্তা ডেস্কঃ

 

আধার জালিয়াতি রুখতে সরকারি প্রকল্পে বাধ্যতামূলক ভোটার আইডি ও বায়োমেট্রিক যাচাই

নিজস্ব প্রতিবেদন: সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে ভুয়া উপভোক্তাদের বাদ দিতে এবং জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার কার্ডের পাশাপাশি ভোটার আইডি (EPIC নম্বর) এবং কঠোর বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থায় খুব সহজেই আধার কার্ড তৈরি করা সম্ভব, যার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছে। এই জালিয়াতি বন্ধ করতেই সরকার এই নতুন কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। এর ফলে এখন থেকে একজন নাগরিককে সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁর ভোটার কার্ডের নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য—উভয়ই প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে। এই দুই তথ্যের মেলবন্ধনেই সুবিধাভোগীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করে সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

প্রাথমিকভাবে পঞ্চায়েত মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতেও অদূর ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি চালু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তৈরি ভোটার আইডি কার্ড আধার কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক যুক্ত করলে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

এই উদ্যোগকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও, বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ কিছু উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা বা ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ব্যক্তিরা যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যাঁদের ভোটার কার্ড হারিয়ে গেছে বা তথ্যে গরমিল রয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থার পথও খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। তবে কোন কোন নির্দিষ্ট প্রকল্পে কবে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা এখনও প্রকাশ করেনি সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *