সন্দেশখালির নোনা জলে ফুটল পদ্ম, ধসে গেল তৃণমূলের দীর্ঘ দেড় দশকের দুর্ভেদ্য দুর্গ!
সুন্দরবনের লোনা হাওয়ায় এবার পরিবর্তনের জোয়ার। যে সন্দেশখালি গত এক দশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নিশ্ছিদ্র দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই সাম্রাজ্যে এবার বড়সড় ধস নামল। বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দারকে ১৭,৫১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সনৎ সরদার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জমি দখল আর নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই ব্যালট বক্সে আছড়ে পড়েছে।
পতন ও উত্থানের নেপথ্য কারণ
এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি সন্দেশখালিতে ২০১৬ সাল থেকে ঘাসফুল শিবিরের দাপট শুরু হয়। ২০২১ সালেও বড় ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল। তবে চাকা ঘুরতে শুরু করে ২০২৪ সালের গোড়ায়। তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখল, বাঁধ কেটে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেড়ি তৈরি এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ সামনে আসে। রুজি-রুটির ওপর টান পড়ায় পথে নামেন খেটে খাওয়া মানুষ। সেই জনরোষের আগুনেই দাহ্য হয় শাসকদলের দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংক। শাহজাহান গ্রেফতার হলেও ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ব্যর্থ হয় শাসকদল। এমনকি প্রার্থী বদল করেও শেষরক্ষা হল না।
রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব
সন্দেশখালির এই পরাজয় কেবল একটি আসনের হাতবদল নয়, বরং এটি গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমিশনের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেশখালির পাশাপাশি পাশের কেন্দ্র হিঙ্গলগঞ্জেও জয়ী হয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ রেখা পাত্র। এই লোনা জলের বিদ্রোহের ঢেউ সরাসরি প্রভাব ফেলেছে রাজ্যজুড়ে, যার ফলে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। সন্দেশখালির রায় স্পষ্ট করে দিল যে, প্রান্তিক মানুষের অধিকার হরণ করলে তার মাশুল দিতে হয় ক্ষমতার অলিন্দে থাকা শক্তিকেও।