পুরোনো বর্জ্যই এখন সোনার খনি, হাওড়া ডিভিশনের সাফল্যে অবাক সবাই!
বার্তা ডেস্কঃ
ই-বর্জ্য নিলামে অভাবনীয় সাফল্য হাওড়া ডিভিশনের, লক্ষ্যমাত্রার চার গুণেরও বেশি আয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওড়া:
পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন ই-বর্জ্য নিলামের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। গত অক্টোবর মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.১৭ গুণ বেশি আয় করেছে ডিভিশনটি। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে কর্মক্ষেত্রকেও আরও পরিচ্ছন্ন ও কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে হাওড়া ডিভিশন থেকে মোট ২০.৬৮৪ মেট্রিক টন অকেজো ও বাতিল ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এই বর্জ্যের তালিকায় ছিল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, জেরক্স মেশিন, বিকল মনিটর, কার্ড রিডার, পুরোনো এসি, ওয়াটার কুলার ও ইউপিএস-সহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী। এই নিলাম থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.১৭ গুণ বেশি। ৫ লক্ষ টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিপুল এই অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে ডিভিশনটি।
ই-বর্জ্য নিষ্পত্তির এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিভিশনের বিভিন্ন অফিস ও পরিচালন কেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা আবর্জনা সরে যাওয়ায় মেঝের জায়গা পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর ফলে রেলকর্মীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও কার্যকরী কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই সাফল্যের বিষয়ে হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম (DRM) বিশাল কাপুর সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিক ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্ক্র্যাপ ও আবর্জনা সরিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি জানান, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে ও টেকসই বর্জ্য নিষ্পত্তি নীতি মেনে কীভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে পারে, হাওড়া ডিভিশনের এই মডেল তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আগামী দিনে এই মডেল ভারতের অন্যান্য রেলওয়ে ডিভিশনের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।