যখন খুশি নিয়ম বদলাবেন কেন? কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভর্ৎসনা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটিতে নিয়োগ করা নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে কমিশন ও বিচারবিভাগের মধ্যে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে।

অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটিতে নিয়োগ কেন?

সম্প্রতি কয়েক হাজার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বা অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের চিঠি পাঠায় কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একদল অধ্যাপক আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী সওয়াল করেন যে, কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ-এ পর্যায়ের আধিকারিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বিশেষ কারণ ছাড়া পোলিং ডিউটিতে পাঠানো যায় না। তা সত্ত্বেও কেন গণহারে অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

কমিশনকে হাইকোর্টের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ

মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে তুলোধনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নগুলো ছিল নিম্নরূপ:

  • অস্পষ্টতা ও অস্থিরতা: বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘হতে পারে-হবে-হবেই’—শেষ মুহূর্তে কমিশনের এমন সিদ্ধান্তহীনতা চলতে পারে না। কমিশনের উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
  • নিয়ম পরিবর্তন: কেন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা নথি ছাড়াই বারবার নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে কমিশনকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।
  • প্রস্তুতির অভাব: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে কেন কর্মীর অভাব নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
  • বিচারপতির ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য: কমিশনের কর্মীর অভাবের অজুহাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি ব্যঙ্গ করে বলেন, “তাহলে আমাদের (বিচারপতিদের) নিন, আমরাই না হয় ডিউটি করতে যাব।”

কমিশনের যুক্তি ও সংকটের জায়গা

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ১,০০০ জন পোলিং কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এই ‘অনিবার্য পরিস্থিতির’ কারণেই অধ্যাপকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বিস্তারিত নথিপত্র পেশ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও গুরুত্ব

যদি আদালত শেষ পর্যন্ত অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেয়, তবে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে পোলিং কর্মী জোগাড় করা কমিশনের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই আইনি লড়াই তাঁদের পেশার মর্যাদা রক্ষার লড়াই। অধ্যাপকদের মতো উচ্চপদস্থ কর্মীদের যত্রতত্র পোলিং ডিউটিতে ব্যবহার করা নিয়মের পরিপন্থী বলেই তাঁরা দাবি করছেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ওপরই এখন ঝুলে আছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা।

এক ঝলকে

  • ইস্যু: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটিতে নিয়োগ।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ: নিয়ম বারবার পরিবর্তন করা এবং প্রস্তুতির অভাব নিয়ে কমিশনকে ভর্ৎসনা।
  • বিচারপতির মন্তব্য: কর্মীর অভাব থাকলে বিচারপতিদেরও ডিউটিতে নেওয়ার ব্যঙ্গাত্মক প্রস্তাব।
  • কমিশনের দাবি: ১,০০০ জন পোলিং কর্মীর ঘাটতি মেটাতে অধ্যাপকদের নিয়োগ।
  • পরবর্তী ধাপ: আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে বিকল্প পোলিং কর্মী নিয়োগের ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *