মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়, হারের দায় এড়ালেন ট্রাম্প!
বার্তা ডেস্কঃ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ট্রাম্পের দাবি ‘ব্যালটে নাম থাকলে ফল অন্যরকম হতো’
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজে ব্যালটে থাকলে তাঁর দল বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করত। দলীয় পরাজয়ের দায় নিজের ওপর নিতে অস্বীকার করে তিনি এই মন্তব্য করেন। অথচ প্রচারণার সময় টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা ও ওহায়োর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে তিনি ভোটারদের কাছে নিজেকে সামনে রেখেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের কর্তৃত্ব
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ওহায়োতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা সাতটি আসন দখল করেছে, যার মধ্যে ভার্জিনিয়ার দশম কেন্দ্র থেকে সুহাস সুব্রহ্মণ্যমের জয় উল্লেখযোগ্য।
হারের নেপথ্যে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংকট। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোও নির্বাচনী প্রচারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ
নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানালেও, ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও অতীতে তিনি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের বিল ভেটো দিয়ে আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনসভার উভয় কক্ষে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় হোয়াইট হাউসের জন্য পরবর্তী সময় বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, নীতি পর্যালোচনা এবং আইন প্রণয়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় ভবিষ্যতে শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি মনোনয়ন প্রক্রিয়াও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।