কৌস্তভের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, আইনি নোটিসে তোলপাড় বিজেপি!
বার্তা ডেস্কঃ
ব্যারাকপুরে বিজেপির অন্দরে তীব্র কোন্দল: বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের
নিজস্ব প্রতিবেদন, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে দলেরই একাংশ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজি এবং পুরনো কর্মীদের কোণঠাসা করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপির অস্বস্তি তুঙ্গে।
সম্প্রতি ব্যারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের দুর্গাপুজোর মঞ্চে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অর্জুন সিং ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। উত্তম দাসকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনায় রাজ্য দপ্তরের সামনে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এর এক দিন পরেই স্থানীয় বিজেপি নেতারা উত্তম দাসের বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের অন্দরে বিভাজন প্রকাশ্যে আসে।
উত্তম দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জেরে বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী সংশ্লিষ্ট নেতাদের ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘ক্রিমিনাল’ বলে কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির স্থানীয় নেতারা। সেখানে সঞ্জয় যাদব নামে এক নেতা অভিযোগ করেন, কৌস্তভ বাগচী দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যারাকপুরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন নামী রেস্তরাঁ থেকে বিধায়ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ যুব মোর্চা সভাপতি বিশাল জয়সওয়াল তোলাবাজি করছেন। এছাড়া, মণীশ শুক্লা খুনের অভিযুক্তদের সঙ্গে বিধায়কের যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করে তিনি নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
বিজেপির ব্যারাকপুর-২ মণ্ডলের সভানেত্রী অনামিকা নাগ অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস থেকে আসা বিধায়ক দলের পুরনো কর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। প্রবীণ নেতা অহীন্দ্রনাথ বসুর মতে, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংগঠনকে দুর্বল করছেন বিধায়ক।
এ বিষয়ে বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এরা কেউ আমার পর্যায়ের নয়। যিনি আমাকে নোটিস পাঠিয়েছেন বা অভিযোগ করছেন, তিনি আগে আমার সামনে এসে দু’লাইন পড়ে দেখান।” বিধায়কের দাবি, এসবের পেছনে অন্য কারও চিত্রনাট্য রয়েছে। তিনি সামনে এসে কথা বললে তার যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে এবং দল সবটা জানে।
স্থানীয় নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য বিবাদ ও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনায় ব্যারাকপুর বিজেপিতে যে বড় ধরনের ভাঙন ধরেছে, তা স্পষ্ট। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।