২০০ জনের হাতে বিদেশি পাসপোর্ট, অবৈধ নাগরিকদের বিরুদ্ধে শুরু কড়া পদক্ষেপ!
বার্তা ডেস্কঃ
ভোটার তালিকায় বিদেশি পাসপোর্টধারী সন্দেহে ২০০ জনের নথিপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২০০ জনের কাছে ভিন দেশের পাসপোর্ট থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর তদন্তে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও নথিপত্র ফের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের জন্য এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও কীভাবে এই ব্যক্তিদের অস্তিত্ব সামনে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এফআরআরও’র রিপোর্টে প্রায় ২০০ জনের কাছে বিদেশি পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে রেখেছেন কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্প্রতি হাওড়ার শিবপুরের এক ব্যক্তির কাছে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেরই পাসপোর্ট পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে একই ব্যক্তির কাছে দুই দেশের পাসপোর্ট এল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। একদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। অন্যদিকে, হায়দরাবাদে এক সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হলেও, এখনই অভিযুক্তদের ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, এফআরআরও’র তালিকায় নাম থাকলেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ, এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ইআরওদের তদন্তে নথিপত্র পরীক্ষা ও নাগরিকত্বের প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। চূড়ান্ত তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।