নিজের দলের কর্মীদের হাতেই রক্তাক্ত বিজেপি বিধায়ক!

বার্তা ডেস্কঃ

 

ডেবরায় বিজেপি বিধায়ক ও জেলা সভাপতির গোষ্ঠীকোন্দল, সংঘর্ষে আহত বিধায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদন, মেদিনীপুর: সোমবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জখম হলেন ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিষ ওম। তাঁর মাথা ও হাতে আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।

বিধায়কের অভিযোগ, এলাকায় চলা ‘তোলাবাজি মডেল’-এর প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেন, “ভিবি-রাম-জি প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল। আমি তার বিরোধিতা করায় আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়।”

অন্যদিকে, বিধায়কের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি তন্ময় দাস। তাঁর দাবি, বিধায়ক নিজেই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তন্ময় দাসের অভিযোগ, “একজন বিধায়কের ব্লকে একজন প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও, আমাদের বিধায়কের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬ থেকে ৭ জন করে প্রতিনিধি রয়েছে। তাঁর আত্মীয় ও অনুগামীরাই এই তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি আগেই উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, কলকাতায় বিজেপির এক জনসভায় রাজ্যে তোলাবাজি বন্ধের দাবি করার কয়েক ঘণ্টা পরেই ডেবরায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

এই ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। দলের বিধায়ক ও জেলা সভাপতির এই প্রকাশ্যে মারধর ও কাদা ছোড়াছুড়িতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের অন্দরের এই কোন্দল নিরসনে রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *