রাহুলের ফোন মমতাকে: ‘বাংলায় ভোট চুরি হয়েছে’, তৃণমূল নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ কংগ্রেস নেতার!
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সন্ধ্যায় তৃণমূল নেত্রীকে ফোন করে সংহতি জানানোর পাশাপাশি বাংলায় ‘ভোট চুরি’ হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় বিরোধীদের একজোট থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল।
ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ও রাহুলের সমর্থন
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর ভবানীপুরের গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমে কারচুপির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে অন্তত ১০০টি আসনে বিজেপি কারচুপি করেছে। মমতার এই অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “বাংলা ও অসম ভোট চুরির স্পষ্ট উদাহরণ। আমরা মমতাজির সঙ্গে একমত।” রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, এর আগে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে যে কৌশলে জনমত চুরি করা হয়েছিল, বাংলায় তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
বিপাকে তৃণমূল হলেও স্বস্তিতে কংগ্রেস
রাজ্যের ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলছে, তখন বাংলার ফলাফলে কংগ্রেসের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। গত নির্বাচনে শূন্য হাতে ফেরা কংগ্রেস এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় দুটি আসনে জয়লাভ করেছে। ফরাক্কা থেকে মোতাবে শেখ ৮,১৯৩ ভোটে এবং রানিনগর থেকে জুলফিকার আলি ২,৭০১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। শূন্য থেকে দুই আসনে পৌঁছানো কংগ্রেসের জন্য বড় প্রাপ্তি হলেও, সামগ্রিকভাবে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক তৃণমূলের হার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতাকে রাহুলের এই ফোন এবং প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর ঘটনাটি জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশল। একদিকে স্ট্যালিন ও অন্যদিকে মমতার মতো আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে রাহুল গান্ধী বার্তা দিতে চাইছেন যে, পরাজয় সত্ত্বেও জোট অটুট রয়েছে। তবে ইভিএমে কারচুপির এই অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের এই সুর চড়ানো আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।