মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন পিয়া, ট্রাম্পের দুর্গে কাঁপন!
বার্তা ডেস্কঃ
মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই: ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনকালের মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তাঁর কাজের ‘গণভোট’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অর্থনীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, অভিবাসন নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে সব আসনের ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কংগ্রেসের দখল নিয়ে সমীকরণ
নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৭টি আসনের পাশাপাশি ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। সেনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানরা ৫৩-৪৭ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসনের নিট লাভ প্রয়োজন। টেক্সাস, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেন, মিশিগান, আইওয়া ও ওহায়োর মতো রাজ্যগুলোর ফলাফল নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের অবশিষ্ট দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ। কংগ্রেসের দখল যার হাতে থাকবে, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অবস্থা
এবারের নির্বাচনে নজর কেড়েছেন বহু ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী। ভার্জিনিয়ার দশম কেন্দ্র থেকে ৬১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সুহাস সুব্রহ্মণ্যম। ওহায়োর গভর্নর পদে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান বিবেক রামস্বামী ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দী অ্যামি অ্যাক্টনের চেয়ে প্রায় দুই লক্ষ ভোটে পিছিয়ে আছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি এলাকা থেকে লড়ছেন রো খান্না, ওয়াশিংটনের সপ্তম কেন্দ্র থেকে প্রমীলা জয়পাল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তৃতীয় কেন্দ্র থেকে অমি বেরা—এই তিন আসনের ভোট গণনা এখনো চলমান। এছাড়া অ্যারিজোনার অমিশ শাহ, টেক্সাসের পূজা শেঠি ও সন্দীপ শ্রীবাস্তব, নিউ ইয়র্কের সরিতা কোমাতিরেড্ডি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদপ্রার্থী নিথ্যা রামনের ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও তদন্তের ক্ষেত্রে তারা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে। বিপরীতে, উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের দখলে থাকলে প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা অনেক সহজতর হবে।