ভোটের ফলে দিশেহারা মাস্ক! ট্রোল নাকি চরম হতাশা?

বার্তা ডেস্কঃ ভোটের ফলে দিশেহারা মাস্ক! ট্রোল নাকি চরম হতাশা?

 

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কটাক্ষ ইলন মাস্কের: ‘স্পেস লেজার কার্যকর হলো না!’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন নির্বাচনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের তোলা বিস্ফোরক দাবিকে সামনে রেখেই তিনি এই কটাক্ষ করেছেন।

ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করলে মাস্ক তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, “মনে হচ্ছে নির্বাচন প্রভাবিত করার জন্য আমার ‘স্পেস লেজার’ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলো না!”

মূলত, টেক্সাসের ওই আসনে ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্র্যালেরিকোর ঐতিহাসিক জয়ের পরই মাস্কের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওই আসন থেকে জয়ী হলেন। তিনি হারিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে।

নির্বাচনী প্রচারণায় ট্র্যালেরিকো দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটকে প্রধান ইস্যু করেছিলেন। তিনি প্রতিপক্ষ প্যাক্সটনকে ‘টেক্সাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ তোলেন যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন কোটিপতিদের নিয়ন্ত্রণে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাক্সটনকে জেতাতে ইলন মাস্ক প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। বিপুল অর্থব্যয় ও আগ্রাসী প্রচারণা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হতে ব্যর্থ হন।

নির্বাচনের আগে থেকেই মাস্কের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের দাবি, টেক্সাসে নিজের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য রক্ষা করতেই মাস্ক রিপাবলিকানদের পেছনে এত টাকা ঢালছেন। অন্যদিকে, মাস্কের পাল্টা অভিযোগ ছিল, ডেমোক্র্যাটদের সীমান্ত নীতি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটিতে পরাজয় এবং মাস্কের এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য মার্কিন রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *