হাতে স্ত্রীর কাটা মাথা, গঙ্গারামপুরের রাস্তায় এ কী বীভৎস দৃশ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
স্ত্রীর মাথা কেটে মন্দিরে প্রার্থনা, গঙ্গারামপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড
গঙ্গারামপুর: দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায় স্ত্রী হত্যার এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের পর সেই কাটা মাথা নিয়ে মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে রিন্টু ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী সীমা সরকার ঘোষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, ঝগড়ার এক পর্যায়ে রিন্টু ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খুনের পরই অত্যন্ত বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে অভিযুক্ত রিন্টু স্ত্রীর কাটা মাথাটি হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে থাকে। জনবহুল রাস্তায় এমন লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সে সোজা স্থানীয় একটি মন্দিরে প্রবেশ করে এবং দেবমূর্তির সামনে স্ত্রীর কাটা মাথাটি রেখে হাত তুলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে প্রার্থনা করতে শুরু করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্ত রিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিহতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি বা দাম্পত্য কলহই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। তবে অভিযুক্ত রিন্টু ঘোষের মানসিক অবস্থা এবং এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।