১২ ঘণ্টা ডিউটির পর লগআউট করায় বস যা শোনালেন, ভাইরাল চ্যাটে তুলকালাম!
বার্তা ডেস্কঃ
অতিরিক্ত কাজের চাপ ও কর্মক্ষেত্রের সংঘাত: এক আইটি কর্মীর সাহসী জবাব
সাম্প্রতিক সময়ে এক আইটি কর্মীর সঙ্গে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি চ্যাট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে একটি জটিল প্রকল্পে নিরলসভাবে কাজ করে আসা ওই কর্মী জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রয়োজনে তাকে নিয়মিত ছুটির দিনে এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। এমন পরিস্থিতিতেও সামান্য একটি ত্রুটির কারণে বসের তিরস্কার ও অসৌজন্যমূলক আচরণ স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কাজের চাপ বনাম ব্যক্তিগত সুস্থতা
ঘটনার সূত্রপাত হয় টানা তিন দিন সারারাত কাজ করে একটি বড় প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের পর। এরপরও একটি ছোটখাটো ত্রুটি রয়ে যাওয়ায় এবং ওই কর্মী লগ আউট করে ফেলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর জবাবে ওই কর্মী দৃঢ়ভাবে জানান, ক্লায়েন্টের কাজের জন্য নিজের ঘুম, আহার ও স্বাস্থ্যের বলিদান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একজন পেশাদার হিসেবে তাকে সুস্থ থাকতে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতেই হয়, যা তার কাজের গুণমান বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
এই ঘটনাটি করপোরেট সংস্কৃতিতে ‘বার্নআউট’ বা অতিরিক্ত কাজের চাপের বিরূপ প্রভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে কর্মীর ব্যক্তিগত সীমানা এবং সুস্থতাকে উপেক্ষা করার প্রবণতা যে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট। সমালোচকদের মতে, কাজের দক্ষতা ও নিষ্ঠার চেয়েও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি, অন্যথায় কর্মীদের কর্মস্পৃহা ও মানসিক ভারসাম্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এক ঝলকে
- টানা পাঁচ মাস অতিরিক্ত কাজের চাপের পর সামান্য একটি কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রোষানলে পড়েন এক আইটি কর্মী।
- ছুটির দিন ও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার পরেও বসের তিরস্কারের প্রেক্ষিতে কর্মী নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকার নিয়ে সরব হন।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনা করপোরেট প্রতিষ্ঠানে সুস্থ কাজের পরিবেশ ও কর্ম-জীবন ভারসাম্যের (Work-life balance) প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।