স্ত্রী অসুস্থ বলে ডিভোর্স, হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন জওয়ান!

বার্তা ডেস্কঃ

 

মানসিক অসুস্থতার অজুহাতে বিবাহবিচ্ছেদ নয়, স্পষ্ট বার্তা ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাম্পত্য জীবনে সুখ-দুঃখ এবং অসুস্থতার সময়ে একে অপরের পাশে থাকাই স্বামী-স্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব। কেবল সঙ্গীর আচরণ নিয়ে সন্দেহ বা মানসিক অসুস্থতার অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা যায় না। সম্প্রতি এক মামলার রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ এবং বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তবের বেঞ্চ চাতরা ফ্যামিলি কোর্টের আগের নির্দেশ বহাল রেখে স্বামীর করা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক আদালত প্রথম এই আবেদন খারিজ করেছিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালে চাতরার ওই দম্পতির বিয়ে হয়। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। স্বামীর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী অকারণে হাসাহাসি করেন, নিজের সঙ্গে কথা বলেন এবং আত্মীয়দের সামনে আপত্তিকর পোশাক পরেন। বিয়ের আগে স্ত্রী ও তাঁর পরিবার মানসিক অসুস্থতার কথা গোপন করেছিল বলেও স্বামীর দাবি। বিপরীতে, স্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টে পণ আদায়ের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি বাপের বাড়িতে থাকছেন।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, স্বামীর অভিযোগের সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ বা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিবরণ মেলেনি। বিয়ের আগে স্বামীর পরিবার স্ত্রীকে চিনতেন, ফলে অসুস্থতা গোপন করার অভিযোগটিও ভিত্তিহীন। হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী, মানসিক অসুস্থতার কারণে বিবাহবিচ্ছেদ পেতে হলে রোগটি এতটাই জটিল হতে হবে যাতে একসঙ্গে থাকা আসাম্ভব। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চূড়ান্ত সনদ প্রয়োজন। কিন্তু স্বামী যে চিকিৎসকের রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, তাতে স্কিৎজোফ্রেনিয়ার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। বরং রাঁচির রিনপাসের মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষায় ওই নারীর মানসিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, স্ত্রী মানসিকভাবে সুস্থ এবং সন্তানের দেখাশোনা করতে সক্ষম। এমনকি তিনি সংসার করতেও ইচ্ছুক। অথচ স্বামী স্বীকার করেছেন যে, তিনি স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা করেননি।

সব দিক বিবেচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের সপক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় স্বামীর আবেদনটি খারিজ করা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *