৩০ কোটি কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রা, সময় ফুরিয়ে আসায় চাপে নবান্ন!

বার্তা ডেস্কঃ ৩০ কোটি কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রা, সময় ফুরিয়ে আসায় চাপে নবান্ন!

 

গ্রামীণ থানার পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘১২৫ দিনের কাজ’কে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গ এবার ‘১২৫ দিনের কাজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ থানাগুলির উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিল। থানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সারাই, কমিউনিটি হল তৈরি, গাড়ি রাখার ছাউনি, নিকাশি ব্যবস্থা, সৌরবাতি এবং শৌচাগার তৈরির মতো পরিকাঠামোগত কাজগুলি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গ্রামীণ থানাগুলিকে কেন্দ্র করে মোট ২৫০টি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ২২টি করে কাজ হবে। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানে ৪টি এবং কালিম্পং ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকায় ৩টি করে কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে থানাগুলির পরিকাঠামোগত ঘাটতি চিহ্নিত করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই স্থায়ী সম্পদগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

এই প্রকল্পের রূপায়ণে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য অর্থ কমিশন, স্বচ্ছ ভারত মিশন, রাজ্যের রাজস্ব, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) এবং সাংসদ-বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নবান্নের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় জব কার্ডধারী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন বা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় স্তরে পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তার অভাবও প্রকল্প রূপায়ণে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং পরিসংখ্যানগতভাবে অন্যান্য রাজ্যের সমকক্ষ হতে এর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্পের কাজকে ‘ভিবি-জি রাম জি’ (VB-G RAM JI)-এর আওতায় আনা হয়েছিল। সেই ধারায় এবার থানার পরিকাঠামো উন্নয়নকেও যুক্ত করা হলো।

এই প্রকল্পে কাজের গতি আনতে আজ, বুধবার বিধাননগরে পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে বিডিও স্তর পর্যন্ত এক ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্তরে মনে করা হচ্ছে, গ্রামীণ পরিকাঠামোর এই আধুনিকীকরণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ পুলিশের কর্মক্ষমতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *