“মমতার আসল রূপ অনেক আগেই চিনেছিল শুভেন্দু”: বিস্ফোরক শিশির অধিকারী
বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর সাফল্য ও রাজ্যে বিজেপির উত্থান নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারী। শুভেন্দুর এই জয়কে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি নাম না করে তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর পরিবারের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। শিশিরের মতে, ক্ষমতার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য অনেক আগেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন শুভেন্দু, যা আজ এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের ‘আসল রূপ’ ও শুভেন্দুর দূরদর্শিতা
ছেলের রাজনৈতিক জয় প্রসঙ্গে শিশির অধিকারী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর পরিবারের ‘আসল রূপ’ শুভেন্দু অনেক আগেই চিনে ফেলেছিলেন। নাম উচ্চারণ না করলেও শিশিরের নিশানায় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার ছিল, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। তাঁর দাবি, শুভেন্দু বুঝতে পেরেছিলেন যে ব্যবস্থার মধ্যে তিনি কাজ করছিলেন, সেখানে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই বোধোদয় থেকেই শুভেন্দু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে মনে করেন তাঁর পিতা।
অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার সুফল
বাংলার মাটিতে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত পরিশ্রমকে মূল কৃতিত্ব দিয়েছেন শিশির অধিকারী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারী বিশ্রামহীনভাবে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। বুথ স্তর থেকে মানুষকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। শিশিরের ভাষায়, শুভেন্দুর এই লড়াই ছিল অসম, কিন্তু মানুষের ওপর তাঁর গভীর আস্থা শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে এনেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব ও নয়া সমীকরণ
এই জয়ের ফলে বাংলার রাজনীতিতে অধিকারী পরিবারের প্রভাব পুনর্প্রতিষ্ঠিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিশির অধিকারীর এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া আদতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। শুভেন্দুর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপির এই উত্থান আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার। তবে শিশিরের এই বক্তব্য শাসক শিবিরের অন্দরের ফাটলকে যেমন প্রকাশ্যে এনেছে, তেমনি নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশার পারদকেও বাড়িয়ে দিয়েছে।