খাবার পর মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা, অবহেলা করলেই বিপদ!
মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার পেছনে রয়েছে জটিল শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকেরই খাওয়ার পরপরই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে। সাধারণ মানুষ একে কেবল মিষ্টির প্রতি লোভ মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবারের অভাব মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ। যখন কোনো খাবারে এই উপাদানগুলো থাকে না, তখন শরীর থেকে দ্রুত ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে আবার দ্রুত নেমে যায়। শর্করার মাত্রা আচমকা কমে যাওয়ায় শরীর শক্তির অভাব বোধ করে এবং মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে মিষ্টির খোঁজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘রিঅ্যাক্টিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।
মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির আরও তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. প্রোটিনের ভূমিকা: প্রোটিন কেবল পেশি গঠনেই সহায়তা করে না, এটি পরিপাক প্রক্রিয়াকেও ধীর করে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়। প্রোটিনের অভাব থাকলে শরীর দ্রুত তৃপ্ত হয় না, ফলে শর্করার দিকে ঝোঁক বাড়ে।
২. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া: নিয়মিত অতিরিক্ত সরল শর্করা বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে অন্ত্রে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা কেবল মিষ্টি বা শর্করা থেকেই পুষ্টি গ্রহণ করে। এর ফলে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস আরও তীব্র ও স্থায়ী হয়।
৩. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: অনেক ক্ষেত্রে মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কেবল শারীরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক। মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে আনন্দদায়ক অনুভূতি দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মের চর্চা করলে মিষ্টি খাওয়ার শারীরিক ও মানসিক তাগিদ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।