গেরুয়া ঝড়ে রাজগঞ্জে স্বপ্নভঙ্গ স্বপ্নার! হারের পর মুখ খুললেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। রাজ্য রাজনীতির এই পালাবদলের ঝড়ে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট ও তারকা প্রার্থী। উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বাজি ছিলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। কিন্তু রাজনীতির ট্র্যাকে প্রথম লড়াইতেই মুখ থুবড়ে পড়লেন এই তারকা অ্যাথলিট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের কাছে ২১,৪৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

দলের অন্দরে ক্ষোভ ও নির্বাচনী ফলাফল

খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে স্বপ্নার আগমন ছিল বেশ নাটকীয়। রেলের চাকরি সামলে এবং পিতৃবিয়োগের শোক কাটিয়ে তিনি যখন নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন, তখন থেকেই দলের অন্দরে তৈরি হয়েছিল অসন্তোষ। রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে সরিয়ে স্বপ্নাকে টিকিট দেওয়ায় স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং উত্তরবঙ্গে বিজেপির ব্যাপক উত্থানই স্বপ্নার পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। গণনার শুরু থেকেই পিছিয়ে থাকা স্বপ্না শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান কমাতে পারেননি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা ও প্রতিক্রিয়ায় অনীহা

ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই চরম হতাশায় গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করেন স্বপ্না। পরাজয়ের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায়ভার জনগণের রায়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে জানান, হার-জিত খেলারই অংশ। তবে বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে কার্যত অস্বীকার করেছেন তিনি। পরাজয়ের ব্যবধান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা ক্ষুব্ধ স্বরেই তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, “কোথায় বেশি ভোটে হেরেছি?” এরপর আর কোনো মন্তব্য না করে তিনি দ্রুত বাড়ির পথে রওনা দেন।

রাজনীতির আঙিনায় পা রেখে ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে স্বপ্নাকে। একদিকে পিতৃবিয়োগের শোক, অন্যদিকে রেলের ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা—সব মিলিয়ে কঠিন লড়াইয়ের পর এই ভরাডুবি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে সোনা জিতলেও ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে স্বপ্নার এই হার উত্তরবঙ্গের তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *