বিজয়োল্লাসের মাঝে অশান্তি রুখতে তৎপর বিজেপি, কর্মীদের সংযত করতে পথে নামলেন ভাবী বিধায়করা
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে জয় পরবর্তী হিংসা ও দখলদারির সংস্কৃতি রুখতে কঠোর অবস্থান নিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য সভাপতির নির্দেশ মেনে এবার মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সংযত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন নবনির্বাচিত প্রার্থীরা। বহরমপুর ও সিউড়িতে দলীয় কর্মীদের অতি-উৎসাহ রুখতে খোদ প্রার্থীদের রাস্তায় নামার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
দখলমুক্ত কার্যালয় ও শৃঙ্খলার বার্তা
বহরমপুরে একটি পৌর পরিষেবা কেন্দ্র দখল করে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই সেখানে উপস্থিত হন জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তিনি নিজ হাতে দলের পতাকা খুলে ফেলে ভবনটি উন্মুক্ত করে দেন। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো দলীয় বা সরকারি কার্যালয় দখল করা যাবে না। একই চিত্র দেখা গেছে সিউড়িতেও। সেখানে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় থেকে বিজেপির হোর্ডিং ও ব্যানার সরিয়ে দেন জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চ্যাটার্জি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দখলদারির এই রাজনীতি বিজেপির আদর্শ বা সংস্কৃতির অংশ নয়। ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজে জড়ালে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর জয়ের আবেগে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলগুলোও বিজেপির বদনাম করতে অন্তর্ঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুব্রত মৈত্র। দলের এই কঠোর অবস্থানের ফলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি—অশান্তিতে লিপ্ত হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে—তৃণমূল স্তরে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সংযত আচরণ আগামী দিনে রাজ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়ক হতে পারে।