ভোট জিততেই রুদ্রনীলের ভোলবদল? প্রসেনজিৎ-শিবপ্রসাদদের ‘ফোন’ নিয়ে টলিপাড়ায় তরজা, আসল সত্যিটা কী?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে রুদ্রনীল ঘোষের জয় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে টলিপাড়ায় ‘বয়কট’ ও ‘তালিবানি প্রথা’র শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন এই অভিনেতা। তবে ভোটের ফলাফল সামনে আসতেই ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতে স্বয়ং ‘বুম্বাদা’র স্পষ্টীকরণ বিষয়টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ইন্ডাস্ট্রিতে বিভাজন ও রুদ্রনীলের জয়
রুদ্রনীল ঘোষের অভিযোগ ছিল, শাসকদলের মতাদর্শের সঙ্গে অমিল থাকায় অতীতে টেকনিশিয়ানদের কালো ব্যাজ পরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল এবং তাঁকে কাজ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে জয়ের পর রুদ্রনীল দাবি করেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁকে ফোন করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র মহলে গুঞ্জন শুরু হয় যে, ক্ষমতার পালাবদলের আভাস পেয়েই কি ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালীরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন? স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের একাধিপত্যের অবসান ঘটবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনীতির রং বনাম পেশাদারিত্ব
এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি জানিয়েছেন যে, তিনি নিজে কাউকে ফোন করেননি। বরং রুদ্রনীলই তাঁকে ফোন করেছিলেন। প্রসেনজিতের মতে, “বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আমি কেবল সেটুকুই পালন করেছি।” তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সম্মানের সাথে কোনো রাজনৈতিক রং না লাগানো হয়। অন্যদিকে, টালিগঞ্জ থেকে জয়ী পাপিয়া অধিকারীও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ হারানোর সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও টলিপাড়ার পরিবেশ
এই টানাপোড়েন টলিউড ইন্ডাস্ট্রির গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। শিল্পীদের কাজ পাওয়া বা না পাওয়া যখন রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর নির্ভর করে, তখন রুদ্রনীল বা পাপিয়ার মতো বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিদের জয় আগামী দিনে ফেডারেশনের কার্যকলাপে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহাতারকার অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ নিজেদের রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে শুধুমাত্র পেশাদারিত্বের মাধ্যমে টিকে থাকতে ইচ্ছুক। এই সংঘাত ও সমন্বয়ের প্রভাব আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্রের কাজের পরিবেশে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।