বাংলায় গেরুয়া বিপ্লব, লোকসভার অঙ্কে ২৯টি আসনে পদ্ম-ঝড়!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নবান্ন দখলের পাশাপাশি লোকসভা ভিত্তিক ফলের নিরিখেও তৃণমূল কংগ্রেসকে কয়েক যোজন পেছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাজ্যে যে দলের আসন সংখ্যা মাত্র ১২-তে থমকে গিয়েছিল, বিধানসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সেই সংখ্যা একলাফে ২৯-এ পৌঁছেছে।
দক্ষিণ থেকে উত্তর: লোকসভার চালচিত্রে আমূল বদল
গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের কিছু পকেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার দক্ষিণবঙ্গ ও খাস কলকাতা সংলগ্ন শহরতলিতেও বড়সড় থাবা বসিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দমদম, বারাসত, যাদবপুর এবং শ্রীরামপুরের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লোকসভা কেন্দ্রগুলোতে এখন বিজেপি লিড নিচ্ছে। এছাড়া হুগলি, আরামবাগ, মেদিনীপুর ও ঘাটালের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও গেরুয়া শিবির নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। উত্তরবঙ্গে গতবার হাতছাড়া হওয়া কোচবিহার আসনেও এবার বিপুল লিড পেয়েছে বিজেপি।
দিল্লির রাজনীতি ও রাজ্যসভার সমীকরণ
বিধানসভায় ২০৭টি আসন পাওয়ার ফলে শুধু রাজ্য রাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বঙ্গ বিজেপির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়তে চলেছে। আগামী ২০২৯ এবং ২০৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার যে ৮টি আসন খালি হবে, বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার অনুপাতে বিজেপি একাই অন্তত ৬টি আসনে জয়ী হতে পারে। এর ফলে সংসদের উচ্চকক্ষেও বিরোধী শিবিরের শক্তি অনেকটা হ্রাস পাবে এবং নীতি নির্ধারণে বিজেপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
পরাজয়ের কারণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকল্প সরকারের আকাঙ্ক্ষাই এই ‘মহাকাব্যিক’ জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। তৃণমূলের ভোট শতাংশ ৪০.৮০-তে নেমে আসা এবং বিজেপির ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পাওয়া স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই ভোটাররা বড় পরিবর্তন চেয়েছেন। এই ফলাফলের প্রভাবে আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও বিজেপি কয়েক কদম এগিয়ে রইল।