তৃণমূলের ‘বেনোজল’ রুখতে কড়া বিজেপি! দলবদলে জারি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা, সুকান্ত-শমীকের বার্তায় শোরগোল
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পালাবদলের আবহে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক শুরু হয়েছে। তবে এই গণ-যোগদান বা দলবদলু স্রোতকে এখনই প্রশ্রয় দিতে নারাজ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সংগঠনের সব স্তরে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে অন্য দল থেকে নেতাকর্মী নেওয়ার ওপর আপাতত ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে পদ্ম শিবির। নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, যাঁদের বিরুদ্ধে জনরোষের কারণে মানুষ পরিবর্তন এনেছেন, তাঁদের দলে টেনে জনতাকে ক্ষুব্ধ করা যাবে না।
তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত ও বিজেপির সতর্কতা
নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা, পঞ্চায়েত সদস্য ও কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন বাড়তে শুরু করেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, ভোটগণনার আগে থেকেই তৃণমূলের নিচুতলার অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। তবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি নেতৃত্ব এখন অনেক বেশি সতর্ক। দলের অন্দরে আলোচনা চলছে যে, রাতারাতি তৃণমূলের লোকজনকে দলে নিলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এই নবাগত বা ‘বেনোজল’রা যাতে পুরনো কর্মীদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, আপাতত সব ধরনের যোগদান প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও দলের কাউকেই পদ্ম শিবিরে স্বাগত জানানো হবে না। একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কণ্ঠেও। তিনি জানিয়েছেন, দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মুহূর্তে দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।
দখলদারি রুখতে কড়া বার্তা
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল বা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়েও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অন্যের দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকা তোলা যাবে না। যদি কোনও কর্মী এই ধরনের কাজে লিপ্ত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁর দলের লোকেদের বিজেপিতে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি আপাতত নিজেদের ঘর গোছাতে এবং জনসমর্থন ধরে রাখতে অনেক বেশি কৌশলী ভূমিকা পালন করছে, যাতে কোনও বিতর্কিত মুখ দলে ঢুকে অস্বস্তি তৈরি করতে না পারে।