রাজস্থানের বুন্দিতে পথকুকুরের পালের নৃশংস হামলা এবং প্রাণ গেল ৯ বছরের এক নিষ্পাপ কিশোরীর

বুন্দি ৬ মে, ২০২৬। রাজস্থানের বুন্দি জেলায় এক হাড়হিম করা ও অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল তালেরা থানার আলকোডিয়া গ্রাম। এক পাল হিংস্র পথকুকুরের অতর্কিত আক্রমণে প্রাণ হারাল ৯ বছরের এক কিশোরী। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন নৃশংসতায় গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকার নাম রিঙ্কু ভিল।
নিথর দেহে পড়ে রইল শৈশব
তালেরা থানার অন্তর্গত আলকোডিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিঙ্কু বুধবার সকালে প্রাত্যহিক শৌচকর্ম সারতে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা মাঠে গিয়েছিল। সেই সময় একদল ক্ষুধার্ত ও হিংস্র পথকুকুর তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরের পালটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিশুটির কোমল শরীরের বিভিন্ন অংশ দাঁত ও নখ দিয়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে দেয় কুকুরের দল। আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে কুকুরের কামড়ে গভীর ক্ষত নিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল ওই নাবালিকা।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও রক্তক্ষরণ
রক্তাক্ত অবস্থায় রিঙ্কুকে তালেরা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কুকুরের কামড়ে শরীরের একাধিক জায়গায় বিশেষ করে গলায় এবং পেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান চিকিৎসকদের। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
প্রশাসনের ব্যর্থতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপিয়েছেন আলকোডিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বিগত কয়েক মাস ধরে এলাকায় পথকুকুরের উপদ্রব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একাধিকবার পথচারী ও শিশুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তরফে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ বা তাদের এলাকা থেকে সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ছোট শিশুরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। আজকের এই ঘটনার পর স্থানীয়রা দোষী আধিকারিকদের শাস্তি এবং মৃত কিশোরীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
তালেরা থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের পর নাবালিকার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনা রাজস্থানের মতো রাজ্যে পথকুকুরের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ নিরাপত্তা নিয়ে ফের এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কীভাবে এত হিংস্র কুকুরের পাল বিচরণ করছে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন সমাজকর্মীরাও।
প্রতিবেদক বর্তমান ঠাকুর।