২৮ বছর পর জুতো পরলেন আঙুরবালা আর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পূর্ণ হলো দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা
দীর্ঘ ২৮ বছর পর অবশেষে পায়ে চটি গলালেন বাসন্তীর আঙুরবালা সাউ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পূর্ণ হলো তাঁর দীর্ঘদিনের কঠিন প্রতিজ্ঞা। বাহাত্তর বছর বয়সী এই বৃদ্ধার চোখে তখন আনন্দাশ্রু। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এক সময় জুতো ছেড়েছিলেন তিনি, আর আজ এক নতুন রাজনৈতিক ভোরের সাক্ষী হয়ে সেই পুরনো শপথ ভাঙলেন তিনি।
বাম আমলে সেই ভয়াবহ স্মৃতি
ঘটনার সূত্রপাত বামফ্রন্ট শাসনামলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা আঙুরবালা সাউ সেই সময় বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, কেবল রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের কর্মীরা তাঁর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। তাঁকে বিবস্ত্র করে অপদস্থ করার পাশাপাশি তাঁর পায়ের চটি কেড়ে নিয়ে চরম লাঞ্ছনা করা হয়েছিল। সেই অপমানের পরেই আঙুরবালা স্থির করেছিলেন, যত দিন না রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, তত দিন তিনি পায়ে জুতো বা চটি পরবেন না।
প্রতিজ্ঞা ও ২৮ বছরের লড়াই
নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে দীর্ঘ ২৮টি বছর রোদ-জল-কাদা উপেক্ষা করে খালি পায়েই কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই নীরব প্রতিবাদ ও ত্যাগ স্থানীয় মহলে বারবার চর্চিত হয়েছে। অবশেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছান আরএসএস কর্মী প্রতিশ্রুতি দেবনাথ। তিনি সযত্নে নতুন এক জোড়া জুতো পরিয়ে দেন বৃদ্ধা আঙুরবালাকে। দীর্ঘ তিন দশকের লড়াই শেষে জুতোর স্পর্শ পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বাহাত্তরের এই প্রবীণ লড়াকু নেত্রী।
এই ঘটনা কেবল একজন মহিলার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা পূরণের গল্প নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিবর্তনের এক সংবেদনশীল দলিল হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। দীর্ঘদিনের এই মানসিক ও শারীরিক লড়াইয়ের অবসান আঙুরবালার মতো বহু রাজনৈতিক কর্মীর কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে রইল।
প্রতিবেদেক: বর্তমান ঠাকুর।