অমিত শাহকে আগে জিজ্ঞেস করুন! অভিষেকের ‘ডিজে’ মন্তব্যের পাল্টা মেজাজি উত্তর মমতার
রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে আলোচিত বিষয় হলো তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মন্তব্য। ভোটের প্রচারে গিয়ে অভিষেক দাবি করেছিলেন যে ৪ তারিখ ফল প্রকাশের পর রাজ্যে ‘ডিজে’ বাজবে। কিন্তু ফলাফল আসতেই দেখা যায় চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো—রাজ্যজুড়ে বইছে গেরুয়া ঝড়। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে মেজাজ হারালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি অমিত শাহের পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিষেককে আড়াল করেন।
পাল্টা আক্রমণে অভিষেককে রক্ষা
এদিন সাংবাদিকরা যখন অভিষেকের করা সেই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “শুনুন, রাজনীতিতে অমিত শাহ বলেছিলেন সবাইকে দড়িতে করে ঝুলিয়ে পেটানো হবে। আগে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দেবেন।” তৃণমূল সুপ্রিমোর এই বয়ান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পরাজয়ের এই আবহেও তিনি দলের অভ্যন্তরে কোনও চাপ তৈরি হতে দিতে নারাজ। বরং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরনো আক্রমণাত্মক ভাষণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিজেপির জয়োল্লাসকে বিঁধতে চেয়েছেন।
ডিজে বনাম দড়ির বিতর্ক
অভিষেকের ‘ডিজে’ মন্তব্যটি ছিল মূলত রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ, যা এখন তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মমতা যে ‘দড়িতে ঝুলিয়ে পেটানো’র প্রসঙ্গের কথা বলেছেন, সেটি বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন সভা থেকে হুঁশিয়ারি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ভাইপোর বিতর্কিত মন্তব্যের দায় এড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুকৌশলে প্রতিপক্ষের অতীতের কড়া মন্তব্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন। তবে এই উত্তর থেকে পরিষ্কার যে, পরাজয় সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী বিন্দুমাত্র নতিস্বীকার করতে রাজি নন এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পথেই অটল থাকছেন।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।