কঙ্কালীতলায় শুদ্ধিকরণ আর সতীপীঠে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক
বীরভূম ৬ মে, ২০২৬। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের রেশ এবার পৌঁছাল বীরভূমের পবিত্র সতীপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দিরে। মঙ্গলবার নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বুধবার সকালে কঙ্কালীতলা মন্দির চত্বরে এক নজিরবিহীন ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান চালানো হলো। একইসঙ্গে মন্দিরের প্রবেশপথে ‘অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ করে বড় বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। মন্দির ট্রাস্ট এবং একদল বিজেপি সমর্থকের এই যৌথ পদক্ষেপে বীরভূমের এই প্রাচীন সতীপীঠের চিরাচরিত প্রথায় বড়সড় বদল আসার ইঙ্গিত মিলছে।
শুদ্ধিকরণ ও প্রবেশ বিধিতে বদল
এদিন সকালে মন্দির চত্বরে জড়ো হন বেশ কিছু গেরুয়া সমর্থক ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ। এরপর গঙ্গার জল ও দুধ ছিটিয়ে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ ধুয়ে ফেলা হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের উদাসীনতা ছিল। এবার নতুন জমানায় ধর্মীয় আচার-আচরণকে আরও কঠোরভাবে পালন করার লক্ষ্যেই এই শুদ্ধিকরণ। তবে সবথেকে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মন্দিরের গেটে টাঙানো ব্যানারগুলোকে কেন্দ্র করে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে কেবলমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই মন্দিরে প্রবেশ করে পুজো দিতে পারবেন। অ-হিন্দু পর্যটক বা দর্শকদের জন্য মন্দিরের গর্ভগৃহ তো বটেই, চত্বরে প্রবেশেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
ঐতিহ্য বনাম নতুন নিয়ম
কঙ্কালীতলা সতীপীঠে যুগ যুগ ধরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ ভিড় জমাতেন। কিন্তু আচমকা এই নতুন প্রবেশ বিধি কার্যকর হওয়ায় পর্যটন ও ধর্মীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মন্দির কমিটির এক সদস্যের মতে, “অনেক মন্দিরেরই নিজস্ব নিয়ম থাকে, এখানেও সেই মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।” তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের জয়ের পর ধর্মীয় মেরুকরণকে আরও উস্কে দিতেই এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর এই ধরণের ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। তবে কঙ্কালীতলার মতো স্পর্শকাতর স্থানে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ভক্তদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, বহু মানুষ একে বাংলার উদার সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।