টলিপাড়ায় এবার পরিবর্তনের ডাক, ইমপা সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল স্টুডিওপাড়া
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর রেশ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায়। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ‘ইমপা’ (EIMPA)-র বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছেন প্রযোজকদের একাংশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমপা অফিসে কার্যত নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল বিনোদন জগত। সভাপতির বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং ফেডারেশনের সঙ্গে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সিনেমা নির্মাতারা।
স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ইমপা
বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত নিজের পদের অপব্যবহার করে আসছিলেন। তাঁদের দাবি, মাল্টিপ্লেক্সে ছবি চালানোর বিনিময়ে নিজের ছেলে অভিনেতা বনি সেনগুপ্তকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন তিনি। এছাড়া, সিনেমাকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক। পাশাপাশি, ‘নন্দন স্ক্যাম’ এবং সংগঠনের বেআইনি ভোট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পরিবেশক শতদীপ সাহার অভিযোগ, সংগঠনের স্ক্রিনিং কমিটি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সদস্যদের অন্ধকার রাখা হতো, যা একটি পেশাদার সংগঠনের জন্য কাম্য নয়।
ফেডারেশনের খবরদারি ও রাজনৈতিক পালাবদল
দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজ্যের ক্ষমতায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতেই ফেডারেশনের (FCTWEI) সঙ্গে ইমপা-র সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। প্রযোজকদের বড় অংশের দাবি, এতদিন স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের ‘অঙ্গুলি হিলনে’ কাজ চলত ইমপা-তে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টালিগঞ্জে দাপট কায়েম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ইমপা অফিস গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধ’ করার পাশাপাশি সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও শোনা যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইমপা-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি বৈঠক ডাকতে হবে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পিয়া সেনগুপ্ত নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইমপা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে তাঁদের সাহায্য প্রয়োজন। তবে প্রযোজকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘পার্টির রাজত্ব’ আর বরদাস্ত করা হবে না। এই সংঘাতের ফলে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের দৈনন্দিন কাজকর্মে স্থবিরতা আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফেডারেশন বা ইমপা-র বর্তমান নেতৃত্ব এই প্রবল চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার।