নিউ মার্কেটে বুলডোজার দিয়ে কার্যালয় ভাঙচুর, বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের বড় অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপ এবার পৌঁছেছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকায়। সদ্য বিজয়ী বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ শুরুর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ঘাসফুল শিবির দাবি করেছে, বিজেপি কর্মীরা বুলডোজার দিয়ে স্থানীয় দোকানপাট ও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওটিতে উচ্ছ্বসিত উন্মাদনার মধ্যে একটি বুলডোজারকে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেখা যায়, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

উত্তেজনার কেন্দ্রে নিউ মার্কেট ও ভাঙচুর বিতর্ক

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি সমর্থকদের একটি দল পরিকল্পিতভাবে নিউ মার্কেট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে। একে ‘চূড়ান্ত গুন্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে শাসকদল বলছে, বিজেপির প্রতিশ্রুত ‘পরিবর্তন’ আসলে বুলডোজারের মাধ্যমেই প্রকাশ পাচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শপথ গ্রহণের আগেই যেভাবে সাম্প্রদায়িক স্লোগান ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা বাংলার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির এক ভয়াবহ ইঙ্গিত। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন মদতেই কর্মীরা এই ধরণের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার সাহস পাচ্ছে।

সহিংসতার কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

মূলত নির্বাচনের জয়-পরাজয় পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকেই এই ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উত্তর ভারতের অনেক রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘বুলডোজার’ ব্যবহারের চল থাকলেও, বাংলায় এর প্রয়োগ নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, আজ দোকানপাট বা দলীয় কার্যালয় আক্রান্ত হলেও ভবিষ্যতে এর লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন রাজনৈতিক বিরোধী নেতা-কর্মী, বাংলার মনীষীদের মূর্তি এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বুলডোজার বিতর্ক রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একদিকে বিজেপি যখন জয়ের উল্লাসে মত্ত, অন্যদিকে তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনমনে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *