বিপুল নথি দিতে পারবে না ঋতব্রত শিবির!
তৃণমূলের অন্দরে দ্বন্দ্ব: নথি আদান-প্রদান নিয়ে জটিলতায় কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির
নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের আইনি লড়াইয়ে এবার নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে নির্দিষ্ট ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই নথির প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলকে পাল্টা জবাব বা নথি জমা দেওয়ার জন্য পরবর্তী ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কালীঘাট তৃণমূলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিবাদমান উভয় পক্ষকেই পরস্পরের জমা দেওয়া নথির প্রতিলিপি প্রদান করার কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে তাদের জমা দেওয়া নথির কপি এখনও মমতা শিবিরকে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা নথি জমা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দলের আইনজীবী এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে, এই নথি আদান-প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের চিঠিতে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, যেসব নেতা ও কর্মী হলফনামা দিয়ে ঋতব্রত শিবিরকে সমর্থন করেছেন, তাদের তালিকা প্রকাশ্যে এলে সংশ্লিষ্টরা প্রতিপক্ষ শিবিরের পক্ষ থেকে হুমকি বা চাপের মুখে পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে ট্রাক ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা শিবিরের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে কর্মীদের দিয়ে হলফনামায় সই করানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।