আবাসন বুথেই বাজিমাত! বহুতলে ৪০% ভোট বাড়তেই খুশির হাওয়া কমিশনের অন্দরে, চলল গঙ্গা সফর
পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নির্বাচন কমিশন। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে মঙ্গলবার বিকেলে গঙ্গা বক্ষে নৌকাবিহারে মাতেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্রার নেতৃত্বে কমিশনের আধিকারিকরা এই প্রমোদভ্রমণে অংশ নেন। মূলত শান্তিতে নির্বাচন মেটানো এবং নতুন কিছু পরীক্ষামূলক পদক্ষেপে সাফল্য আসায় কমিশনের অন্দরে এখন খুশির হাওয়া।
আবাসন বুথে বাজিমাত এবং ভোটের হার বৃদ্ধি
শহরাঞ্চলের বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের ভোটদানে অনীহা কাটাতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল কমিশন। দীর্ঘ লাইন এবং নিরাপত্তার অভাবজনিত আতঙ্ক দূর করতে সরাসরি আবাসনের ভেতরেই বুথ তৈরি করা হয়েছিল। কমিশনের এই কৌশলী সিদ্ধান্তে মিলেছে অভাবনীয় সাফল্য। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের ৮৭টি আবাসন বুথে এবার উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছেন বাসিন্দারা, যেখানে পূর্বের তুলনায় ভোটদানের হার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপের দুটি বুথে ভোট পড়েছে ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে, স্পেস টাউন হাউজিং কমপ্লেক্সে ৯০ শতাংশ এবং হাইল্যান্ড গ্রিন হাউসে ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদান নথিভুক্ত হয়েছে। এই ব্যাপক সাড়ায় উৎসাহিত হয়ে আগামী নির্বাচনে এই ধরনের বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
গণনায় স্বচ্ছতার দাবি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভোট গণনা নিয়ে বিরোধীদের একাংশের তোলা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার চারটি আসনের গণনা নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) রিপোর্ট উল্লেখ করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম মেনেই ফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে কোনো প্রকার অনিয়মের অবকাশ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসনের ভেতর বুথ করার এই মডেলে ভোটারদের আস্থাবর্ধন হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রবণতা বেড়েছে, তেমনি বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার জাতীয় গড়ের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।