বেআইনি দখলদার হলেও উচ্ছেদে মানতে হবে আইন, কঠোর নির্দেশ হাইকোর্টের!
বার্তা ডেস্কঃ
ধর্নায় বসা বাসিন্দাদের সরাতে বুলডোজার চালানো যাবে না, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
নিজস্ব প্রতিবেদন: জনস্বার্থে কোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আইন মেনে কাজ করতে হবে। আইনকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য আন্দোলনরত বাসিন্দাদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত এক মামলায় শুক্রবার এমনই পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ধর্নায় বসে থাকা মানুষদের সরাতে প্রশাসন ‘বুলডোজার’ নিয়ে যেতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কেউ ছোট ঝুপড়িতে থাকুন বা বড় প্রাসাদে, প্রত্যেকেরই সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বরং যাঁরা ঝুপড়িতে থাকেন, তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো অন্য কেউ না-ও থাকতে পারেন। সেই মানুষদের ভরসার একমাত্র জায়গা হলো আদালত।”
প্রসঙ্গত, জয়গাঁয় চা বাগানের জমিতে স্থলবন্দর তৈরির সরকারি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠে। এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করে ‘পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতি’। মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, ওই চা শ্রমিকেরা দীর্ঘ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। অথচ তাঁদের পুনর্বাসন বা জমির পাট্টা সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, জনস্বার্থেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং আন্দোলনকারীরা প্রকল্পের কাজ আটকে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাসিন্দারা ভুল কাজকে আড়াল করতে ‘বুলডোজার’ শব্দটিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করছেন।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ভট্টাচার্যের পাল্টা প্রশ্ন, “নিজেদের মাথার ছাদ রক্ষা করার চেষ্টা করাটা কি অন্যায়?” আদালত জানায়, কেউ জন্ম থেকেই সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হন, আবার কেউ লড়াই করে বাঁচেন; এই বৈষম্য দূর করে সকলকে সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়াই আদালতের কাজ।
শেষ পর্যন্ত হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকার আইন মেনে স্থলবন্দর তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। তবে কোনো কাঠামো ভাঙতে বা কাউকে উচ্ছেদ করতে হলে প্রশাসনকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকে এই এলাকায় প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। সরকারি পুনর্বাসন প্যাকেজে পাকা বাড়ির জন্য সাড়ে ৫ লক্ষ এবং অস্থায়ী বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, জমির পাট্টাহীন চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা লাগাতার ধর্না-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে এই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।